পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ডোপ টেস্ট!

পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও ডোপ টেস্ট!

মাদকসেবন ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় চাকরি হারাচ্ছেন পুলিশের ২৬ সদস্য। শুধু সেবনের প্রমাণ মেলায় ২৪ জনের বিরুদ্ধে নেয়া হচ্ছে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি। ডোপ টেস্টে পজিটিভদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে সদর দফতর, এমনটাই জানালেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, এই উদ্যোগ পুলিশ বাহিনীতে স্বচ্ছতা আনবে বলে আশা মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানালেও অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, মাঠপর্যায়ের পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও আনতে হবে ডোপ টেস্টের আওতায়।

গেল ২৮ জুন তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড ও রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেফতার হয় ২১ মাদক ব্যবসায়ী। জিজ্ঞাসাবাদে যারা তেজগাঁও ও শিল্পাঞ্চল থানার ২০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক কারবারে জড়িত থাকার কথা জানায় । তদন্তে শেষে দুই থানার অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায়, ডিএমপি কমিশনার ও আইজিপির নির্দেশে প্রত্যেক থানায় সন্দেহজনক পুলিশ সদস্যদের তালিকা তৈরি ও ডোপ টেস্ট শুরু হয়। মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা ইতিবাচকভাবেই দেখছেন এই উদ্যোগকে।

ডিএমপির ৫৭টি ডিভিশনের ১০০’র বেশি পুলিশ সদস্যের নমুনা পরীক্ষার পর, পজিটিভ হওয়া ৫০ জনের মধ্যে মাদক গ্রহণ ও কারবারে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ মেলায় ২৬ পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যে চাকরি থেকে বরখাস্তের ঘোষণাও এসেছে। যাদের মধ্যে আছে ১৭ জন কনস্টেবল, চারজন এসআই, তিনজন এএসআই, একজন সার্জেন্ট ও একজন নায়েব। আর শুধু মাদক গ্রহণের দায়ে বাকি ২৪ জনের বিরুদ্ধে চলছে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স উপকমিশনার ওয়ালিদ হোসেন বলেন, যেসব সদস্য সন্দেহভাজন তাদের প্রাথমিকভাবে লক্ষণ নিয়ে চিহ্নিত করে টেস্ট করার জন্য পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে শুধু মাঠপর্যায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও ডোপ টেস্টের আওতায় আনার পরামর্শ অপরাধ বিশ্লেষকদের।

ঢাবি আইন বিভাগ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন, সব জায়গাতেই সুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। শুধু নিচু স্তরদের মধ্যে অভিযান চালালে তা লোকদেখানো হবে।

মাদকের বিস্তাররোধে অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *